অমরত্ব লাভের স্বপ্ন।

জীবনের শাশ্বত সত্য হলো জীবন একদিন থেমে যায়। নিভে যায় মানুষের জীবন প্রদীপ। মানুষ আলিঙ্গন করে মৃত্যুকে। পৃথিবীতে অনেক সৃজনশীল মানুষ আছেন যারা তাঁদের সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করেন। এই সমস্ত প্রতিভা গুলো মানুষের মনে ঠাঁই করে থাকেন মৃত্যুর যুগ যুগ পর ও।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়
“আজি হতে শতবর্ষ পরে,
কে তুমি পড়িছ বসি?
মোর কবিতাখানি কৌতুহল ভরে।

অথবা রুনা লায়লার গানে,
শিল্পী আমি শিল্পী
তোমাদেরই গান শোনাবো
কখনো গান থেমে গেলে
আমাকে যেওনা কো ভুলে।

অথবা শিল্পী সতীনাথের গানে,
আমি চলে গেলে
পাষাণের বুকে
লিখোনা আমার নাম,
বিদায়ের আগে শুধু ওগো
এই মিনতি রেখে গেলাম।

অথবা কিশোর কুমারের গানে,
তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে
আমার মরন যাত্রা যেদিন যাবে,
তুমি বারান্দাতে দাঁড়িয়ে থেকো
শেষ দেখাটা দেখতে পাবে।

সারা বিশ্বব্যাপী এরকম অনেক মানুষ আছেন যারা মনে মনে একটি সুপ্ত ইচ্ছা লালন করেন মৃত্যুর পর ও মানুষ যেন‌ তাঁদের কে যুগ যুগ ধরে স্মরণ করেন। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের কথায়, সাহিত্যে, গানে আর প্রকাশে তাঁদের এই ইচ্ছের কথা নানা ভাবে প্রকাশ পায়।

কেন এই আকুতি? কেন এই লালিত স্বপ্ন? কেন এই আন্তরিক আবেদন?

মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি হলো হাজারো মানুষের মনে ঠাঁই করে নেয়া। সেটা হতে পারে তাঁর সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে, হতে পারে মানুষের জন্য তাঁর ত্যাগের মাধ্যমে বা অন্য বিভিন্ন কোন কারণে। কারণ যাই হোক ধ্রুব সত্য হলো এটা প্রায় সব মানুষেরই মনের একটি লালন করা স্বপ্ন। পুষে রাখা একটি সুপ্ত ইচ্ছে।

জীবন পরিক্রমায় আমরা নানান ধাপ পেরিয়ে আসি। পেরিয়ে আসা এই সময়ে আমরা হাজারো আর লাখো মানুষের সংস্পর্শে আসি। এই সময়ে কিছু কিছু মানুষ তাঁদের ভালো ভালো কর্ম দিয়ে মৃত্যুর পরও অনেকের মনেই স্থান করে নেন অনেক দিনের জন্য। আবার এদেরই কেউ কেউ এই সময়ে তাদের নিন্দিত কাজের জন্য ও মানুষের মনে একটা ঘৃণার আসন লাভ করেন আর মানুষ তার এই নিন্দিত কাজগুলো ও মনে রাখে দীর্ঘদিন।

বড় বড় প্রতিভাবান, শিল্পী, সাহিত্যিক বা আরো অনেক সৃজনশীল প্রতিভার অনেক কর্মই থাকে যেগুলো দিয়ে তাঁরা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেন বা নিতে পারেন যুগের পর যুগ।

আমরা আমজনতা। সাধারণ মানুষ। মানুষের মনে, মানুষের হৃদয়ে আসন করে নেয়ার মত আমাদের কি কিছু নেই?

অবশ্যই আছে। আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন আচরণ দিয়ে ও‌ মানুষের হৃদয় জয় করতে পারি। এই সমস্ত কর্ম দিয়ে মৃত্যুর পরও মানুষের মনে আর তাদের স্মরণে থাকতে পারি অনেক অনেক বছর।

শুধু প্রশ্ন আমরা কোনটা চাই? নন্দিত হতে না নিন্দিত হতে?

Md. Aowrangazeb Chowdhury
মোঃ আওরঙ্গজেব চৌধুরী
২৩ অক্টোবর ২০২১।

Send private message to author
What’s your Reaction?
0
0
0
0
0
0
0
Written by
Aowrangazeb Chowdhury
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!