অমানুষ

মাতাল দুশ্চরিত্র এক ছেলের সাথে আজ আমার আপার বিয়ে। মাতাল হলেও ছেলে অনেক ধনী। আমাদের বাজারের প্রায় সব দোকানগুলোর মালিক। বাজারে ক্লাব ঘর নামে তার একটা আড্ডাখানা আছে সেখানে প্রতিদিন মদের আসর বসায়। সারাদিন গুটিকয়েক ছেলেপেলে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বাপ -মা দুজনেই মারা যাওয়ায় লাগামহীন চলাফেরা করে।

সবচেয়ে বড়ো পরিচয় ছেলে আমার বাবার রাজনৈতিক দলের। বাবার নির্বাচনে অর্থ ব্যয় করে। বাবা হুট করে এ বিয়ে ঠিক করেছেন। বিয়েতে তেমন কোনো বড়ো আয়োজন হচ্ছে না, অনেকটা তাড়াহুড়া করেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। কারণ আপা এক ছেলেকে ভালোবাসে সেটা বাবা জানতে পেরেছেন।

আপা যে ছেলেটাকে ভালোবাসে তাকে আমি চিনি, আমাদের স্কুলের জব্বার মাস্টারের ছেলে সোহেল ভাই। তিনি খুব ভালো ছাত্র। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স শেষ করেছে। গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে। সবাই তাকে ভালো ছেলে হিসাবে চিনে। দেখতেও বেশ ভালো! পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চির মতো লম্বা, একটু উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণের গায়ের রং, মাথায় কোঁকড়া চুলে দারুণ লাগে তাকে। এমন একটা ছেলেকে সবাই জামাই হিসাবে চায় কিন্তু আমার বাবা তো সাধারণ মানুষের কাতারে পড়ে না!

আপার এস,এস,সি পরীক্ষার আগে সোহেল ভাইয়ের কাছে কিছুদিন পড়েছিল। সেখান থেকেই মনে হয় তাদের মাঝে একটা বোঝাপড়া হয়েছে, আমি ঠিক বলতে পারব না।

আমার বাবা রেজাউল চৌধুরী রাজারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। পদ্মার পাড়ের মানুষগুলোর ভাগ্য গত বিশ বছর যাবৎ বাবার হাতে! তাদের ভাগ্য বিশ বছরে একটুও বদলায়নি শুধু আমার বাবার থলিটা ভারি হয়েছে! প্রতিবার তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় পাশ করেন। তার বিপক্ষে কেউ দাঁড়ায় না। দাঁড়ায় না বলা মনে হয় ঠিক না। গতবার সোহেল ভাইয়ের বাবা হুট করে বাবার বিপক্ষে নির্বাচনে নমিনেশন জমা দিয়েছিলেন। গ্রামের অনেক মানুষ তার পক্ষে। তিনি খুব ভালো মানুষ হিসাবে পরিচিত। এলাকার লোকজন উনাকে খুব পছন্দ করে। স্কুল মাস্টার হলেও ওনাদের অন্যরকম একটা সম্মান আছে।

আমরা বংশপরম্পরায় ধনী। এ থানায় পাঁচশো বিঘা জমি আমাদের। দুইতলা রাজ প্রাসাদের মতো বাড়িটা আমার দাদা বানিয়েছেন। দাদা রাজনীতি করতেন না। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। গরীব দুঃখির বিপদে সাহায্য করতেন। বাবার এ সব কাজের বিরোধিতা করতেন। আমার জন্মের পরপরই দাদা পানিতে ডুবে মারা যান! দাদার মৃত্যু একটা রহস্যময় ঘটনা। এত ভালো সাতার জানা মানুষটা পানিতে ডুবে মারা গেলেন!

যদিও আমার বাবা চেয়ারম্যান কিন্তু মন্ত্রী পর্যন্ত বাবাকে সমীহা করে চলে। একটা গুজব ছড়িয়ে পড়ল এবার বাবা চেয়ার হারাবেন। সবাই ভেবেছিল বাবা বুঝি তাকে হুমধামকি দিয়ে নির্বাচন করতে দিবেন না, কিন্তু তেমন কিছুই হলো না। বাবা তাকে স্বাগতম জানালেন বাড়ি গিয়ে। এ সব দেখে এলাকার মানুষ জন সাহসী হয়ে ওঠল। যারা এতদিন গোপনে তার পক্ষে ছিল। তারাও প্রকাশ্যে তার প্রচারণা শুরু করল। বোঝায় যাচ্ছিল বাবা এবার পরাজিত হবেন। যদিও বাবাকে এনিয়ে কোনো চিন্তা করতে দেখিনি। তাকে দেখে মনো হতো জয় তারই হবে! নির্বাচনের তিনদিন আগে জব্বার মাস্টার কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন! বাবা এ নিয়ে কত আফসোস করলেন,” আঃ, কত ভালো মানুষ ছিলেন! মানুষের জন্য কত ভাবতেন। এমন মানুষটা কোথায় চলে গেলেন?”

কেউ তাকে দেখেনি! আমি তাকে সেদিন রাতে দেখেছিলাম আজ যেখানে সোহেল ভাই কে রাখা হয়েছে সেই ঘরটাতে। আমি জানি সোহেল ভাই কেউ আজকের পরে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না!

আপা তো বাবাকে চিনে তাই বিয়েতে অমত করার সাহস হয়নি শুধু অনুরোধ করেছিল সোহেল ভাইকে যেন কিছু না করে। বাবাও তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন। আমার বাবা কথা দিয়েছেন আর তা পালন করেছেন এমনটা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

ভেবেছিলাম আপা খুব কান্নাকাটি করবে বা উল্টাপাল্টা কিছু আবার করে বসবে! আমি আপার রুম গিয়ে দেখি শান্ত হয়ে বসে আছে। দেখে মনে হচ্ছে তেমন কিছুই হয়নি। নীল রংয়া একটা শাড়ি পরেছে, একা একাই ভালো সাজগোছ করেছে। বিয়ের সাজে আপাকে খুব সুন্দর লাগছে! আমি বললাম, “কেমন আছিস আপা?”

আপা আমার দিকে বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে বলল, “ভালোই আছি। আমাকে সুন্দর লাগছে না বল?”

“হ্যাঁ, তোকে পরীর মতো লাগছে!”

আপা কেমন একটু শুকনো হাসি দিলো। আপার হাসিটা আমার বুকে মাঝে তীরের মতো বিঁধে গেল। আমি মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় ভাই!

“রায়হান তুই জানোছ সোহেল কোথায় আছে?”

আমি আপার চোখের দিকে না তাকিয়ে মিথ্যা বললাম।” না রে জানি না। মনে হয় ঢাকা চলে গেছে। ” আমার মনে হলো আপা সব বুঝে গেছে। মুখের হালকা হাসিটা হারিয়ে কেমন মলিন হয়ে গেছে!

আপা গলাটা খাদে নামিয়ে বলল, “রায়হান আমার একটা কাজ করে দিবি ভাই?”

“কী কাজ বলতো শুনি?”

“আমায় একটা পিস্তল জোগাড় করে দিবি ভাই?”

“আপা তুই পাগল হয়ে গেছিস!”

আপার দিকে তাকানোর সাহস হলো না। আমি জানি ও চোখে কী পরিমান ঘৃনা আছে এখন! আপার রুমে থাকতে আর ভালো লাগছে না। কিছু না বলে মাথা নিচু করে আপার রুম থেকে বের হয়ে আসলাম।

বাহিররুমে এসে দেখলাম কাজী সাহেব চলে এসেছেন। হাতে একটা লম্বা করে হাজিরা খাতার মতো একটা খাতা ধরে আছে। তার সামনে ছোটো টি টেবিলে কয়েকপ্রকারের মিষ্টি রাখা। মনে হয় না তিনি কোনো মিষ্টি মুখে দিয়েছেন। সোফায় গুটিমেরে বসে আছেন। তারচোখে ভয়ের ছাপ। মনে হয় একটু পরে তাকে ফাঁসিতে ঝুলান হবে। আমায় দেখে উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিলেন।

আমি সালামের কোনো জবাব দিলাম না। তার সামনে গিয়ে বললাম,” মিষ্টি খান না কেন?”

সে দ্রুত একটা মিষ্টি মুখে পুরে দিলো। তার হাবভাব দেখে আমার হাসি পাচ্ছিল। গম্ভীর একটা ভাব ধরে রাখলাম।

তিনি আমার দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বললেন, ” বিয়ে হতে আর কত সময় লাগবে?”

“কেন! আপনার কী কোনো জরুরি কাজ আছে?”

“না, না, কাজ নাই। বিয়েটা পড়িয়ে আমার আবার চরশ্যামাইল যেতে হবে তো তাই।”

আমাদের বাড়ি থেকে চরশামাইল বিশ কিলোর মতো পথ। রাতের বেলা যাওয়টা একটু কঠিন বটে। “আপনার কোনো চিন্তা করার দরকার নাই। আপনাকে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

সন্ধা গড়িয়ে রাত হয়েছে। আজ আকাশটায় মেঘে ঢাকা আধাঁর, মনে হয় আমাবস্যার রাত। এমন একটা রাত খুব দরকার কোনো কোনো কাজের জন্য! এমন রাত বাবার খুব প্রিয়! বাহিরে এসেই বাবার সামনে পড়ে গেলাম, আমি সাধারণত ওনার সামনে যাই না। উনাকে খুব ভয় পাই তা নয় ঘৃণা করি!

আমার তখন এইচ, এস, সি পরীক্ষা চলছে। দুটো পরীক্ষা শেষ। খুব ভালো ছাত্র হিসাবে পরিচিত ছিলাম। এস,এস, সি তে আমার রেজাল্ট খুব ভালো ছিল। এ সব খবর আমার বাবার কাছে ছিল কি-না জানি না। উনি কখনো আমাদের খবর রাখতেন না। একটু পরে পরীক্ষা দিতে যাব এ সময় হুট করে বাবা বললেন, ” জাদরুলের সাথে যা।” আমি হতবাক হয়ে বাবার দিকে চেয়ে রইলাম। আমার বাবার পড়াশোনার দৌড় খুব বেশি নয়। পড়াশোনা করাটা তিনি খুব একটা পছন্দ করেন না! ছোটবেলায় স্কুলে শিক্ষক তাকে পড়া না পারায় মারতে আসলে তিনি কলম দিয়ে গাই মেরে পালিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর স্কুলে পাঠান যাইনি। এত বড়োলোকের ছেলে পড়াশোনা না করলে কী হবে? তাই দাদাও জোর করেননি!

পিছন থেকে মা এসে বলল, “আজ ওর পরীক্ষা।”

বাবা অগ্নি দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকালেন।” তোকে না বলেছি আমার কথার ওপর কক্ষনো কথা বলবি না।”

মা ভিতরে চলে গেল। আমি সেদিন বাবার কথা মতো যায়নি। বের হয়ে পরীক্ষা দিতে চলে গেলাম। বিকালে ফিরে দেখি আমাদের কাজের মেয়েটা মায়ের গায়ে মলম লাগাচ্ছে! মায়ের দেহে কাটা কাটা দাঘ! আমায় দেখে মা লুকিয়ে ছিল সব। তারপর থেকে কোথাও যাই না। আমি কোথাও চলে গেলে৷ আমার মা বোধহয় আর বাচঁতে পারবে না। মা কে হারানোর খুব ভয় হয় আমার!

আমার মা ছিল খুব গরীব ঘরের মেয়ে। মায়ের সৌন্দর্য দেখে বাবা মা কে বিয়ে করেন। বিয়ের পর নানাবাড়ির কেউ আমাদের বাড়িতে আসেনি। বাবা তাদের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছেদ করে দিয়েছেন! আমি আমার মাকে কখনো হাসতে দেখিনি!

আমাকে দেখে বাবা গম্ভীর গলায় বললেন, “কী রে গাধা কোথায় থাকিস?”

আমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম, কিছুই বললাম না। ওনার সামনে আসলে আমি কথা বলতে পারি না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়।

“যা দেখ তো জামিলের কী খবর?” জামিল হলো আমার হুবু দুলাভাইয়ের নাম। যার সাথে আজ আপার বিয়ে হওয়ার কথা।

মাথা নিচু করে দ্রুত বাবার সামনে থেকে সরে পড়লাম।

মায়ের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উঁকি দিলাম। মা আমায় দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিলো! আমার মা গত একবছর ধরে আমার সাথে কোনো কথা বলেন না। আমাকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়! গতবছর মা স্টোক করল। অবশ্য স্টোক করেছে কিনা নিশ্চিত বলা যায় না, কারণ তাকে কোনো ডাক্তার দেখান হয়নি! মায়ের মুখ একদিকে বাঁকা হয়ে গেছে, কথাও যে খুব একটা বলতে পারে তাও না। বাবা একজন গ্রাম্য ডাক্তার এনে একদিন দেখিয়েছিলেন বাস। সেই ডাক্তার বারবার বাবাকে অনুরোধ করে ছিলেন মাকে বড়ো একজন ডাক্তার দেখাতে। বাবার জবাব, “ধূর! মেয়ে মানুষের কিছুই হবে না!”

ওনার মতে মেয়ে মানুষের জান কই মাছের মতো এদের সহজে কিছু হয় না! মা যে আমার সাথে কথা বলে না তার দুটি কারণ আছে বলে আমার মনে হয়। এক, বাবার রক্ত আমার শরীরে বইছে ! দুই, আমি মা বোনের নিরাপত্তা দিতে না পারা কাপুরুষ!

বাড়ির উঠানে এসে দেখলাম জাদরুল দাঁড়িয়ে আছে, আমায় দেখে মাথা নত করে সালাম দিলো। ও হলো বাবার সব কাজের ডান হাত। অনেকটা কুকুরের মতো প্রভুভক্ত! ঠিক বাবার না ও ছিল দাদার ডান হাত। দাদা একবার ঢাকা থেকে ফেরার সময় রাস্তায় একটা ছোট ছেলেকে কাদঁতে দেখেন। ছেলেটার বাবা-মা দুজনে রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে! সব শুনে দাদার খুব মায়া হয়, সেই ছেলেটিকে সাথে করে নিয়ে আসেন। তারপর থেকে পালিত কুকুরের মতো এ বাড়িতে আছে। নামের মতো দেখতেও জাদরুল খুব ভয়াংকর। কুচকুচে কালো গায়ের রং। লম্বায় ছয় ফিটের কাছাকাছি। এমন একজন মানুষ মাথা নত করে সামনে দাঁড়ালে কেমন জানি লাগে! ছোটবেলা থেকে আমাকে দেখলেই জাদরুল এমন আচরণ করত আমার খুব খারাপ লাগত।

এমনিতে আমি ওর সাথে খুব একটা কথা বলি না। আজ বললাম,” জাদরুল এদিকে আয় তো।” অনেকদিন থেকে মাথার মাঝে জমে থাকা পোকাটা বড্ড কুটকুট করছে!

ও বোধহয় আমার এমন কন্ঠ শুনে একটু চমকাল! “জি, ছোটো হুজুর।”

“আমার সাথে আয়।” কোনো কথা না বলে আমার পিছু পিছু চলে আসল।
আমি জাদরুল কে নিয়ে আমাদের বাড়ির সামনের খোলা মাঠে এসে দাঁড়ালাম। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঠিকমতো চেহেরা দেখা যায় না।

জাদরুল কে বললাম, “আমার জন্য তোকে একটা কাজ করতে হবে, পারবি না?”

ঘাড় বাঁকা করে আমার দিকে তাকিয়ে খুব নরম স্বরে বলল, “একবার শুধু হুকুম করেন ছোটো হুজুর।”

আমি ওর কাঁধে হাত রেখে সব খুলে বললাম। হতবাক হয়ে চেয়ে আছে আমার প্রস্তাব শুনে। ” কী বলেন ছোটো হুজুর! “

জাদরুল একটা মেয়েকে ভালোবাসে সখিনা নাম। বাবর জন্য বিয়ে করতে পারছে না। এ ছাড়া আমার কোনো উপায় নাই! যা সব ব্যবস্থা কর। আমি তোর বিয়ের ব্যবস্থা করছি।” মাথা নিচু করে জাদরুল চলে গেল।

হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বাবার কাছে আসলাম। এভাবে ছুটে আসতে দেখে বাবা হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ” কী হয়েছে? অমন ঘোড়ার মতো ছুটছিস কেন?”

“সর্বনাশ হয়ে গেছে বাবা”

“কী সব বলছিস? গাধার মতো! কীসের সর্বনাশ হয়েছে? “

“চলেন নিজ চক্ষে দেখবেন।”

“আঃ! কী হয়েছে বল তো শুনি?”

“সোহেল ভাই পালিয়ে গেছে!

“কী!, চল তো দেখি।” বাবা জাদরুল কে ডাকতে ডাকতে বের হয়ে গেলেন।

আমরা এখন বসে আছি বড়ো একটা ইন্জিন নৌকায়। পদ্মার মাঝাে চলে এসেছে নৌকা। রাতের আধাঁর সব কিছু ঝাপসা লাগছে। অনেক দূরে দূরে মাছ ধরার নৌকা চলছে দুয়েকটা। বাবাকে হাত-পা বাধাঁ অবস্থায় রাখা হয়েছে নৌকায়। জাদরুল বসে আছে একটু দূরে। আমি বাবার সামনে বসে আছি। আমার খুব খারাপ লাগছে!

বাবা বড়ো বড়ো চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! ওনার চোখে প্রচন্ড রাগ ! ছাড়া পেলে আমাকে খুন করে ফেলবেন। আমি ওনার মুখের বাঁধনটা খুলে দিলাম। উনি কঠিন স্বরে বললেন, “কী রে গাধার বাচ্চা গাধা! তুই কী করতে চাস?”

“কিছু না বাবা। আপনার সন্তান হিসাবে আপনার পাপের বোঝাটা একটু কমাতে যাচ্ছি।”

ভালো থাকবেন অপারে বলেই একটা ধাক্কা মেরে ফেলে দিলাম পদ্মার বুকে! পদ্মার বিশালতায় নিশ্চয়ই বাবার পাপ ধুয়ে যাবে। বাবার ঝাপটানোর শব্দ কানে আসছে! দ্রুত নৌকা চালিয়ে দূরে অনেক দূরে চলে আসলাম।

আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি মায়ের রুমে। মা একটা ধবধবে সাদা শাড়ি পরেছে। আমি অবাক হয়ে চেয়ে আছি। মায়েদের আল্লাহ বিশেষ ক্ষমতা দেয়, না হলে মা কী করে বুঝল সব! মা আমার সামনে এসে দাঁড়াল। আমি তাকিয়ে আছি মায়ের দিকে। কতদিন পর মায়ের মুখখানা দেখলাম। মা আমাকে কষে একটা চড় মারল! আমি ঠিক বুঝলাম কেন মারল? কাজটা করেছি বলে, না কি দেরি করে করেছি বলে। মা আমাকে বুকে টেনে নিলো। মায়ের মমতার উষ্ণতায় আমার ভিতর জমে থাকা বরফগুলো গলে টপটপ করে মায়ের পিঠে পড়তে লাগল!

আমার পিছনে কুকুরের মতো দাঁড়িয়ে আছে জাদরুল, আজ থেকে আমিই ওর প্রভু। হাঁক দিয়ে বললাম,” জাদরুল সোহেল ভাই কে নিয়ে আয়।”

“জি, হুজুর। “ওর চোখে জল!

সোহেল ভাই আর বড়ো আপার বিয়ে হচ্ছে, পাশে সাদা শাড়ি পরে বসে আছে মা। মায়ের দিকে তাকাতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে! সোহেল ভাই বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে! তাকে দেখে মনে হচ্ছে এখনো সে বিশ্বাস করতে পারছে না!
আপার চেহারায় চাঁদের মতো হাসি! আকাশের মেঘ কেটে গিয়ে বড়ো একটা চাঁদ উঠেছে, চাঁদের আলোয় দুজন প্রেমিক প্রেমিকার বিয়ে পড়াচ্ছেন কাজী সাহেব। আমার মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একটা দৃশ্য দেখছি!

® নাবিল মাহমুদ

Send private message to author
What’s your Reaction?
0
1
0
0
0
0
0
Nabil Mahmud
Written by
Nabil Mahmud
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!